সুন্নাহ শব্দটি মুসলিম সমাজে অতি সুপরিচিত পরিভাষা । কিন্তু শব্দটি আরবী হিসেবে তার অভিধানিক ও পারিভাষিক পরিচয় একাধিক হতে পারে । নিম্নে এর কিছু পরিচয় তুলে ধরা হল  ।

সুন্নাহ শব্দের আভিধানিক পরিচয়

সুন্নাহ শব্দটি আরবী আভিধানিক অর্থ হল পথ ও পদ্ধতি যা ভালে কিংবা খারাপ অর্থে ব্যবহার হতে পারে ।

”সুন্নাহ” শব্দটি কুরআন ও হাদীসে বহুবার ব্যবহার করা হয়েছে ।

যেমান মহান আল্লাহ বলেন,

”তোমাদরে পুর্বে অতীত হয়ে গেছে অনেক ধরনের জীবন পদ্ধতি, রীতি ও নীতি । তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমন কর এবং দেখ যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তাদের পরিনতি কি হয়েছে । ”
(সূরা আল ইমরান – ১৩৭)

এখানে সুন্নাহ শব্দটি এখানে জীবন পদ্ধতি ও রীতি-নীতি অর্থে বোঝান হয়েছে ।

কুরআনুল কারিমে এরকহম বহু আয়াত আছে ।

এখন একটি হাদিস উল্লেখ করি :

সাহাবী আবু সাইদ আল খুদরী (রা) হতে বর্নিত; তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ছা) বলেছেন : “তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তী জাতির রীতি-নীতি বিঘতে-বিঘতে, হাতে-হাতে অর্থাৎ হুবহু অনুসরণ করে ফেলবে, এমনটি তারা গুইসাপের গর্তে প্রবেশ করলে তোমরাও তাদের অনুসরণ করে গর্তে প্রবেশ করবে । আমার জিজ্ঞাস করলাম, হে আল্লাহর রসুল! পূর্ববর্তী জাতি বলতে কি ইয়াহুদি ও নাসারা? তিনি বললেন : তাহলে আবার কারা? ”
(সহী মুসলিম: ৬৭২৩)

সুতরাং সুন্নাহ শব্দটি কুরআন হাদীসে রীতি-নীতি, পথ পদ্ধতি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে ।

সুন্নাহর পারিভাষিক পরিচয় :

ইসলামী শরীয়াতে যখন সাধারণভাবে সুন্নাহ শব্দটি ব্যবহার করা হবে, তখন এর অর্থ দাঁড়াবে নাবী (ছা) এর আদেশ, নিষেধ এবং কথা, কাজ ও সম্মতি ইত্যাদি । এ জন্যই কিতাব ও সুন্নাহর দলীল বলতে কুরআন ও হাদীসের দলীল কেই বুঝায় ।

ইসলামী পরিভাষায় সুন্নাহ :

উম্মাতের জন্য শরীয়ত স্বরুপ নাবী হতে যে সব কথা, কাজ ও সম্মতি প্রকাশ পেয়েছে তাকেই সুন্নাহ বলা হয় । অতএব দ্বীনী বিষয়ের সাথ সংশ্লিষ্ট নয় এবং ওয়াহীর সাথেও সম্পৃক্ত নয় এমন সব পার্থিব বিষয় নাবী (ছা) হতে প্রকাশ পেলেও তা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত নয় ।

About Author: Nickty